বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত শুল্ক চুক্তির সর্বোচ্চ সুফল পেতে একটি সমন্বিত জাতীয় কৌশল প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞ ও নীতিনির্ধারকরা। তাদের মতে, এ চুক্তি দেশের বাণিজ্য খাতের জন্য যেমন সুযোগ তৈরি করেছে, তেমনি কিছু চ্যালেঞ্জও বয়ে এনেছে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক চুক্তি: কীভাবে বাণিজ্যিক সুফল সর্বোচ্চ করা যায়’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তারা এ কথা বলেন। রাজধানীর বিআইআইএসএস মিলনায়তনে গতকাল এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (অর্থ মন্ত্রণালয়) ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিআইআইএসএস মহাপরিচালক মেজর জেনারেল ইফতেখার আনিস।
প্রবন্ধ উপস্থাপনায় বিআইআইএসএসের গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবীর, আইইউবিএটির অধ্যাপক ড. গোলাম রাসুল এবং বিজিএমইএর সিনিয়র সহসভাপতি ইনামুল হক খান শুল্ক চুক্তির ফলে বাংলাদেশের রফতানি প্রতিযোগিতার ওপর প্রভাব তুলে ধরেন।
বক্তারা উল্লেখ করেন, চলতি বছরের ১ আগস্ট কার্যকর হওয়া এ চুক্তির ফলে বাংলাদেশের ওপর আরোপিত পাল্টা শুল্কহার ৩৫ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশে নামানো হয়েছে।
তারা এ অর্জনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে অভিহিত করেন, যা বাংলাদেশকে ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, কম্বোডিয়া, পাকিস্তান ও শ্রীলংকার মতো আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সমকক্ষ স্থানে নিয়ে এসেছে এবং প্রতিবেশী ভারত ও মিয়ানমারের তুলনায় আরো প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে রেখেছে।
বক্তারা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রফতানি বাজার, বিশেষ করে পোশাক খাতে। এ চুক্তি যথাযথভাবে কাজে লাগানো গেলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আরো সম্প্রসারিত হতে পারে।
তবে তারা সতর্ক করে বলেন, পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক শুল্ক পরিস্থিতি তাৎক্ষণিক নীতি-মনোযোগ ও সব অংশীজনের সমন্বিত পদক্ষেপ দাবি করে।
সেমিনারে বলা হয়, এ চুক্তির পুরোপুরি সুফল পেতে হলে বাংলাদেশকে পুরো বাণিজ্য ব্যবস্থাকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত কৌশল গ্রহণ করতে হবে।
সেমিনারে নীতিনির্ধারক, ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞদের একযোগে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক যুদ্ধ-সংশ্লিষ্ট অনিশ্চয়তার মধ্যেও টেকসই প্রবৃদ্ধি ও স্থিতিস্থাপকতা নিশ্চিত করা যায়।